২৫ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান চালক কিশোর সবুজ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটিত

facebook twitter whatsapp

ছবি: কিশোর সবুজ হত্যার মূল আসামী

টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান চালক কিশোর সবুজ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটিত মামলার আরো এক পলাতক হোতা গ্রেফতার; ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার।  

টাঙ্গাইলের সখিপুরে ক্লুলেস ও বহুল আলোচিত অটোভ্যান চালক কিশোর সবুজ (১৪) অপহরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড মামলার আরো একটি বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৪ এর  ধারাবাহিক ও নিবিড় অভিযানের অংশ হিসেবে এই মামলার আরো এক পলাতক মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে হত্যাকাণ্ডের শিকার ভিকটিম সবুজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আভিযানিক দল।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকালে সখিপুর পৌরসভার কলেজ মোড়-মিলপাড় এলাকার বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার কিশোর ছেলে সবুজ প্রতিদিনের ন্যায় ভাড়ায় চালিত ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। প্রথমে সখিপুর থানার সাধারণ ডাইরী নং-১৯২৭, তারিখ-২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. এবং পরবর্তীতে মামলা নং-১৫, তারিখ-১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি., ধারা-৭/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ রুজু হয়।

এরপর নিখোঁজের ২৩ দিন পর গত ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়। সে সময় মামলার অন্যতম মূলহোতা শাহীন (৩০) ও হাবিবকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়। সেখানে শাহীনের নিজ হাতে দেখানো স্থান থেকে ভিকটিম সবুজের পরিহিত শার্ট, পায়ের স্যান্ডেল এবং বন্য প্রাণীর খেয়ে ফেলা মরদেহের অবশিষ্টাংশ হিসেবে মাথার খুলি, চুল ও হাড্ডি উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহ এমন নৃশংস হত্যার ঘটনার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখে। ভিকটিম সবুজের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত এবং এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বস্তুগত আলামত ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এসআরবি-১৪, সদর কোম্পানি, ময়মনসিংহ এর আভিযানিক দল ২১ অক্টোবর ২০২৬খ্রি. নেত্রকোনা জেলার মদন থেকে উদ্ধার করে। সেখানকার তথ্যে, ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আরও এক অন্যতম হোতা মোঃ প্রমিক মিয়া (২১), জেলা-নেত্রকোনার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ ২২ অক্টোবর ২০২৬খ্রি. রাত অনুমান ১২:৩০ ঘটিকায় সদর কোম্পানি ও সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল, এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহ এবং সিপিসি-৩, চান্দগাঁও, এসআরবি-৭, চট্রগ্রাম এর পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে উক্ত পলাতক আসামিকে চট্টগ্রাম জেলার হালিশহর থানার নয়াবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অটোভ্যানটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই তারা কিশোর সবুজকে নির্জন জঙ্গলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর অটোভ্যান ও মোবাইল ফোনটি নিয়ে তারা পালিয়ে যায় এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে গভীর জঙ্গলে ফেলে রাখে। কিশোর সবুজ হত্যা মামলার সকল আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহ এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ প্রমিক মিয়াকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। 

Related Articles